Home / Education / ২২ দফায় বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, বন্ধ থাকবে আর কত দিন জেনে নিন বিস্তারিত!

২২ দফায় বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, বন্ধ থাকবে আর কত দিন জেনে নিন বিস্তারিত!

দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সাধারণ ছুটি আরও এক দফায় বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে গত সাড়ে ১৬ মাসে মোট ২২ দফা বাড়ানো হলো ছুটি। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা বন্ধ দাঁড়াচ্ছে ৫৩৩ দিনে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে এই ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর পর চলতি বছরের ২৩ মে থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে গত ২৫ মার্চ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তবে, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে সেই ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২৯ মে পর্যন্ত করা হয়। সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে না আসায় পুনরায় ছুটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার আবারও সেটি বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হলো।

তথ্যমতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটির একটা তারিখ শেষ হলে ফের আরেকটা সময়ের জন্য ছুটি ঘোষণাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ এ ছুটি যেন এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনলাইন ক্লাস চালু থাকলেও তাতে মিলছে না আশানুরূপ সাফল্য।

যদিও সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, শিক্ষকদের বাড়িতে পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আর অন্তর্বর্তীকালীন পাঠ পরিকল্পনা ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা করোনা মহমারিতে বিশ্বজুড়ে স্কুলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রবিবার (১ আগস্ট) এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আরও মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

টুইটে জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে স্কুল শিক্ষা সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। আমরা সবাই বর্তমানে এই সমস্যার ভূক্তভোগী। মহামারির কারণে বিশ্বের ১৫ কোটি ৬০ লাখ স্কুলগামী শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ সম্ভবত আর কখনও স্কুলে ফিরবে না।

“মহামারি থেকে উত্তরণ কার্যকর করতে হলে সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পুনর্গঠনে মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকদের বেতন আরও বাড়ানো উচিত এবং বিশ্বজুড়ে আরও বেশি সংখ্যক শিশু যেন ডিজিটাল শিক্ষার আওতায় আসতে পারে- তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

এর আগে গত ১২ জুলাই এক বিবৃতিতে করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়েছিল জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এবং করোনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির মতে, সংক্রমণ ৫ শতাংশে নেমে এলে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ গতকাল সোমবারের (২ আগস্ট) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংক্রমণের হার ২৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এদিন ২৪৬ জন করোনায় মারা গেছেন।

শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ডব্লিউএইচও এর মানদণ্ড মতে, করোনা সংক্রমণের হার সর্বনিম্ন ৫ শতাংশে নেমে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। বর্তমানে দেশে সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি তাতে খুলে দেওয়ার অবস্থা নেই। তাই ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যথাযথ।

সংশ্লিষ্টরো বলছেন, লাগাতার বন্ধে প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত বছরের তিনটি পাবলিক ও সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। সব শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে অটো পাস।

এখন পর্যন্ত এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। অনেক প্রচেষ্টায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বাগে আনা ‘সেশনজট’ ফিরে এসেছে। শুধু তা-ই নয়, নতুন করে প্রায় দুই বছরের বেশি সেশনজট জেঁকে বসেছে। এমনকি স্কুল-কলেজে এই সেশনজটের ঢেউ লাগার উপক্রম হয়েছে।

২২ দফা ছুটি বৃদ্ধি: গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২২ দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে গত ১৬ মার্চ সংবাদ সম্মেলন ডেকে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। প্রথমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়।

পরে প্রথমে ৪ এপ্রিল এবং পরে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই ছুটি চতুর্থ দফায় বাড়ানো হয় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোজার ছুটি শুরু হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তা ছিল ১৫ জুন পর্যন্ত।

এরপর একসঙ্গে পৌনে ২ মাস বাড়িয়ে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরের দফায় ওই ছুটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ে। এরপর এক মাস বাড়িয়ে ছুটি করা হয় ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। সেই ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ১ অক্টোবর বলা হয়, করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

২৯ অক্টোবর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ছুটি ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সেই ছুটি শেষ না হতেই ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। এরপর ঘোষণা দিয়ে প্রথমে ১৬ জানুয়ারি ও পরে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ে ছুটি। পরে ১৪ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় ছুটি বাড়ে।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে বৈঠক করে শিক্ষাসহ সরকারের ৬টি মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে সেদিন ঘোষণা করা হয়, ৩০ মার্চ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হবে। আর এর আগের ঘোষণা অনুযায়ী ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

আর শিক্ষার্থীদের ১৭ মে হলে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরে খোলার কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল, আবাসিক হলে অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে ওই সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ছাত্রছাত্রীকে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে।

কিন্তু শহরের পাশাপাশি মফস্বল অঞ্চলেও করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণে তা আর হয়ে উঠেনি। এ অবস্থায় ২৯ মে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। সেই ছুটি শেষ না হতেই গত ২৬ মে সংবাদ সম্মেলনে ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাও প্রথমে ৩০ জুন ও পরে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আর সর্বশেষ ২৯ জুলাই রাত ১১টায় পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে।

About admin

Check Also

নতুন শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবি

জাতীয় শিক্ষানীতি, টেকসই উন্নয়নসহ (এসডিজি) বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *