Home / National / পাখিবন্ধু পুলিশ

পাখিবন্ধু পুলিশ

করোনার সংকটকালীন সময়ের ‘লকডাউনে’ ছুটিতে কর্মহীন ও দুঃস্থদের মতোই খাদ্য সংকটে পড়ে পাখির ঝাঁক। সে সময় কেউ পাখিদের ক্ষুধার আকুতি অনুভব করতে না পারলেও চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বিষয়টি ঠিকই অনুধাবন করেছিলেন। পাখিদের ক্ষুধার আকুতি বুঝতে পারার পর তখন থেকে নিয়ম করে পাখিদের খাদ্য জোগান দেন তিনি। অভুক্ত পাখিদের খাবার সরবরাহ করে সে সময় তিনি পুলিশসহ বিভিন্ন সমাজে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

পাখিপ্রেমী পুলিশ, অন্নদাতা পুলিশ, পাখিবন্ধু পুলিশ ও মানবিক পুলিশ অফিসারের মতো নানা তকমাও লাগে তার নামের আগে। এরপর থেকেই আরো অনুপ্রাণিত হন তিনি। পাখিদের জন্য কিছু করবেন এমন চিন্তা থেকে প্রথমে অভুক্ত পাখিদের খাবার সরবরাহ ও পরে নিরাপদ আবাসস্থল গড়ার উদ্যোগ নেন সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়। তাই নিজ উদ্যোগে শহরের গাছের ডালে ডালে মাটির কলস ও বাঁশের খুপড়ি বেঁধে পাখির বাসা তৈরির কাজ শুরু করেছেন পুলিশের এই কর্তা।

পাখিকূলের খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি শহরের গাছের ডালে ডালে কলস ও বাঁশের তৈরি পাখির বাসা বেঁধে দেয়ার কাজ শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে পাঁচ হাজার পাখির বাসা গড়ে দেয়ার উদ্যোগের কথা জানায় পুলিশ।

‘পুলিশের বিচরণ যেখানে, পাখিদের অভয়ারণ্য সেখানে’এ স্লোগানে পাখিদের বাসা গড়ার উদ্যোগ নেন পুলিশ কর্মকর্তা। জেলার ৫টি থানা, একটি ফাঁড়ি, ৩০টি ক্যাম্পসহ মোট ৩৯টি স্থাপনায় পাখিদের অবাধ বিচরণে পাঁচ হাজার মাটির কলস ও বাঁশের খুপড়ি বেঁধে দেয়া হচ্ছে। যেখানে নির্ভয়ে বাস করতে পারবে ২০-২৫ হাজার পাখি।

এ ব্যাপারে জেলা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, করোনাকালে মানুষ যখন গৃহবন্দি ছিলো তখন খাবার হোটেলও বন্ধ। পাখিরা যেখান থেকে খাবারের জোগান পেত সে জোগান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে সময় তিনি প্রতিবেলায় পাখিদের খাবার ব্যবস্থা করে দিতেন। চানাচুর-মুড়িসহ বিভিন্ন শুকনা খাবার সরবরাহ করা হতো। এখনো তিনি নিয়ম করন প্রতি বেলায় পাখিদের সেই খাবার সরবরাহ করে থাকেন। শহরের শহীদ হাসান চত্বর এলাকায় গেলেই পাখির ঝাঁক তাকে এখনো ঘিরে ধরে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে খাবার দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করান তিনি।

তবে এবার পাখিদের জন্য আরো বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মৃত্যুঞ্জয় জানান, খাবার সরবরাহের পাশাপাশি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়বেন তিনি। তাইতো গাছের ডালে ডালে বাঁশের খুপড়ি ও মাটির কলস টানানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দেখা যাবে নিরাপদ এই পাখির বাসা। যেখানে পুলিশের কাছাকছি থাকতে পারবে পাখিরা। যাতে করে পুলিশ সদস্যদের ভেতরে একটি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। এতে করে পাখিরাও থাকবে পুলিশের সুনজরে।

এটি শুধুমাত্র একটি প্রচারণা না উল্লেখ করে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, জীবে প্রেম করে যেজন সেজন সেবিছে ঈশ্বর এই উক্তিকে বুকে ধারণ করে তিনি জীবের প্রতি প্রেম দেখাচ্ছেন। করোনার সময় থেকেই তিনি পাখিদের পাশে আছেন। প্রথম অবস্থায় এ রকম কাজ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ করেননি। তবে বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তার একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। সেখানে তিনি পাখিদের খাবার দিচ্ছেন বলে দেখা যায়। ওই ভিডিওটি সে সময় দেশব্যাপী আলোড়িত হয়। তবে তিনি নিজে থেকে এমন কাজকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখতে চান।

গত ১৪ ডিসেম্বর বাসা বেঁধে দেয়ার কাজ শুরু করে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ এখন অনেক মানবিক। শুধু আইনশৃক্সখলা রক্ষার কাজেই নয় বরং বিভিন্ন সামাজিক কাজেও পুলিশের অংশগ্রহন আশানুরূপ। যা আপনারা করোনাকালীন সময়ে প্রমাণ পেয়েছেন। সেই কাজের অংশ হিসেবে পশু পাখিদের জন্য ইতিবাচক এ উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদের দাবি রাখে। পুলিশ শুধু এখন জনতার নয় প্রাণীকূলেরও।

এসপি আরো বলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা রয়েছে আইনি ও পুলিশি কার্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কাজে পুলিশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক নেতা হয়ে মানবিক কাজ করতে হবে। তাই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কাজেও সফলতার স্বাক্ষর রাখতে চেষ্টা করছি।

About admin

Check Also

আজ ২৫/৯/২১ তারিখ, দেখেনিন বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনা ও ২১ ক্যারেট রুপার দাম

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *